নদীর ঢেউয়ের সাথে সাথে ৬৫ ফুটের লম্বা কিছু একটা ধীরে ধীরে এগোচ্ছে। আর এমন একটি ভিডিও চিনের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তারপরেই শুরু হয় জিনসিটা আসলে কী তা নিয়ে আলোচনা, পর্যবেক্ষণ। অনেকেই এটাকে জল দৈত্য বলেছেন। কেউ কেউ বলেছেন সাপ। তবে সেসব কথাকে উড়িয়ে দেন গার্ডিয়ানের বিজ্ঞানীরা। যদিও পরক্ষণে রহস্যের ব্যাপারটি গার্ডিয়ানই প্রকাশ করেছে।
ভিডিওটি চিনের ইয়াংগৎজি নদীতে। ভিডিওটিতে দেখা যায় রঙের এক ভয়ানক অবয়ব। এটাকে নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিবিসির খবর অনুযায়ী, এ ভিডিও পোস্ট করে পিয়ার। যার ৬ মিলিয়ন ভিউ ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। এ ভিডিওটি সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলছে অনেকেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় এ কায়াকে ‘থ্রি জর্জেস ওয়াটার মনস্টার’ অর্থাৎ জল দৈত্য নামে ডাকা হচ্ছে। হুবেই প্রদেশের থ্রি জর্জ বাঁধের কাছে জলের ঢেউয়ের মধ্যে এ জল রাক্ষসের কাঠামোটি দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন যে ক্রমবর্ধমান দূষণের কারণেই এটি তৈরি হয়েছে, আবার অন্যরা একে পৌরাণিক দৈত্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তবে এ ধরনের নানা জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন গার্ডিয়ানের বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে এটি জলদৈত্য বা অন্য কিছু নয়। বরং জলের মধ্যে থাকা কোনো বড়সড় সাপের দেহ হতে পারে এটি, বলছেন তারা।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনেক কসরতের পর যখন একে জল থেকে তুলে আনা হয়েছিল তখন একে দেখে সবাই থ হয়ে গেছিল। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, যখন এটিকে টেনে আনা হয় তখন দেখা যায় এটি দৈত্য বা সাপ, এসব কিছুই নয়, এটি ৬৫ ফুটের একটি বড় এয়ারব্যাগ। নৌকা ঘাটে কাজ করা ওই লোকেরা কালো দীর্ঘ একটি টুকরো পানি থেকে টেনে তোলেন, যা দেখে মনে হয়েছে যে এটাকে কোনও একটি শিপইয়ার্ড থেকে ফেলে দেয়া হয়েছিল।
পরে এই ছবি শেয়ার করে সাঙ্ঘাইস্ট। ভাবুন একবার কী মজার ব্যাপার। লোকে যাকে দৈত্য বলে মনে করছিল শেষ পর্যন্ত তা এয়ারব্যাগ হলো! এ যেন রুমাল-বেড়ালের উলট পুরাণ, মানে ছিল বেড়াল হল রুমাল! তবে খুব তাড়াতাড়ি এ এয়ারব্যাগটি কোথা থেকে পানির মধ্যে এলো তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গেছে।
সূত্র : এনডিটিভি